অঘটন আটকালেন, 'বড়দিদি'র মতো বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের সামলে দিলেন মমতা

ধর্মতলায় টিএমসিপি ও বামপন্থী ছাত্র-যুবরা যেভাবে মুখোমুখি হয়েছিল, তাতে একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতেই পারত। কিন্তু সামলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চ থেকে বার্তা দিলেন, আমি আপনাদের একটা কথা বলি শুনুন, ছাত্রছাত্রীরা ডোরিনা ক্রসিংর একটা আন্দোলন করছে।

আপনারাও করছেন। ইস্যু এক  ভেদাভেদ করা উচিত নয়। রাস্তায় বসে আন্দোলন করুন। ক্যাম্পাসে করুন আন্দোলন করুন না। কেউ কোথাও বাধা দেবে না। এদের এদের (টিএমসিপি) মতো আন্দোলন করতে দিন।             

রাজ্যে নরেন্দ্র মোদী এসেছেন। ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিল করছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ওদিকে রানি রাসমনিতে মঞ্চ বেঁধে ধর্নায় বসেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। সন্ধে নাগাদ বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের মিছিল ঘুরে যায় টিএমসিপি-র মঞ্চের দিকে। পুলিস কিছু বোঝার আগে তিনটে ব্যারিকেড ভেঙে তৃণমূলের মঞ্চের কাছে চলে যান বামপন্থী ছাত্র-যুবরা।

এরমধ্যেই খবর পেয়ে মঞ্চে চলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শান্ত থাকার আবেদন করেন। কিন্তু তখন পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন বামপন্থী ছাত্র-যুবরা। মোদী বিরোধিতায় তাঁর অবস্থান নিয়ে আসতে থাকে প্রশ্ন। 

এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন,”আমরা নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ করে আনিনি। উনি রাস্তাঘাটেও যাতায়াত করেননি। প্লেনে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী আসেন, রাষ্ট্রপতি আসেন, তখন দেখা করতে যেতে হয়। দিতে হয় মিনিস্টার ইন ওয়েটিং।

সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ওদের গন্ডগোল। ফিরহাদ হাকিমকে পাঠিয়েছিলাম। মিলেনিয়াম পার্কের সামনে এক লক্ষ লোক আটকে ছিল। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে রাস্তা খোলানোর ব্যবস্থা করেছি। ৪টে অনুষ্ঠানে ডেকেছিল। একটায় গিয়েছি। সময় চেয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।

রাজ্য ৩৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। আমি গিয়ে বলে এসেছি, এনপিআর মানব না, ক্যাব মানব না। আমি যখন শুনেছি গন্ডগোল হচ্ছে, তখন চলে এলাম। সেপ্টেম্বরেই প্রস্তাব এনেছিলাম, এনআরসি, এনপিআর, সিএএ মানব না।”           

সুলেখায় যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের উপরে লাঠিচার্জের ঘটনার ব্যাখ্যাও দেন মমতা। বলেন,”ভিন্ন মত থাকতে হয়। পুলিসে সবাই আমার লোক নয়। কে কংগ্রেসের লোক, কে বিজেপির লোক। আমি মানবিক বলে চেষ্টা করি। পুলিস বারণ করেছিল। তাও এলাম। শান্তিতে আন্দোলন করুন। কেন বাধা দেব।

আমি আপনাদের পক্ষে। কোনও ভেদাভেদ রাখা উচিত নয়। আপনারা যা যা ইচ্ছে করুন। আপনি করতে পারবেন বলে আমরা পারব না? আমাদের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ভূমিকা নেই! তারা একটা আন্দোলন করতে পারে না? আপনাদের ভয় কেন? তৃণমূল ছাত্র পরিষদ আন্দোলন করে বড় হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলেই বিচার পাবেন। কেউ হিংসা ছড়াবেন না। যারা হিংসা ছড়াচ্ছে তারা শুধু পাবলিসিটি চায়।”

সুত্র

Facebook Comments