আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব - SOMOYERKONTHOSOR

আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তি এবং দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার তৌফিক কামনা করা হয়। রবিবার সকাল ১১ টা ১৪  মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আখেরি মোনাজাতে লাখো মুসল্লি অংশ নেন।

মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশের তাবলিগের প্রধান মারকাজ কাকরাইলের মুরব্বি হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ। এর আগে রোববার বাদ ফজর ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে হেদায়েতি বয়ান পেশ করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক। আখেরি মোনাজাতের আগে বিশেষ বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইবরাহিম দেওলা।

এদিন আখেরি মোনাজাতের অংশ নিয়ে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত ও হেদায়েত প্রার্থনা করেন। এসময় মহান আল্লাহ পাকের অশেষ মহিমায় আবেগাপ্লুত হন লাখো মুসল্লি। অশ্রুসিক্ত নয়নে হাত তোলেন তারা। চাইলেন সুখ ও সমৃদ্ধি। সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেদের সঁপে দিয়ে কাঁদলেন।

আকুতি-মিনতি করে বললেন, ‘হে রাহমানুর রাহিম, পরম করুণাময়,  আমাদের দ্বীনের পথে, কল্যাণের পথে পরিচালিত করো। তুমি জাহানের মালিক, হেফাজত করো। রহম করো। কবুল করো প্রার্থনা।’ এসময় ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজধানীর উপকণ্ঠের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীর।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় অর্ধ লক্ষ বিদেশি মেহমানসহ কয়েক লাখ মানুষ এই আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি মোনাজাত সম্প্রচারের ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে মোনাজাতে শরিক হতে পেরেছেন।

এরআগে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসেন তুরাগ তীরে। ফজরের নামাজের পর থেকেই বিশেষ ট্রেন, বাসসহ বিভিন্নভাবে এসে ইজতেমা মাঠ ও তার আশপাশে অবস্থান নেন মুসল্লিরা।

ফলে উত্তরে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা দক্ষিণে বিমানবন্দর থেকে টঙ্গীমুখী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া শাখা রোডগুলো থেকেও কোনো যানবাহন সড়কে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে মোনাজাতে অংশ নিতে চার দিক থেকে মুসল্লিরা পায়ে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছেন।

সুত্র

Facebook Comments