আর রাজপুত্র-যুবরানি নয়, হ্যারি-মেগান এখন শুধুই আম আদমি!

তাঁরা আর রাজ পরিবারে থাকবেন না। রাজ পরিবার থেকে আলাদা হওয়ার কথা সপ্তাহ খানেক আগে নিজেরাই জানিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। এবার তাঁদের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাকিংহাম থেকে এল পাল্টা সিদ্ধান্ত।

বাকিংহাম প্যালেস থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগান এখন থেকে আর ‘রয়্যাল হাইনেস’ উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না। অর্থাৎ তাঁরা আর রাজপুত্র বা যুবরানি নন।

হ্যারি-মেগান রাজ পরিবার থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াতেই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এই পথে হাঁটলেন বলে মনে করছে ব্রিটেববাসী। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান এখন থেকে শুধমাত্র ডিউক অফ সাসেক্স ও ডাচেস অফ সাসেক্স।

আরও পড়ুন: রাজকীয় উপাধি হারালেন যুক্তরাজ্যের ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল

রাজ পরিবার থেকে আলাদা হয়ে কানাডাতে থাকতে চান হ্যারি-মেগান। সেখানেই ব্যক্তিগত সময় কাটাতে চান তাঁরা। উল্লেখ্য, বিয়ের পর থেকেই পাপারাৎজিদের নজরে ছিলেন মেগান মার্কেল।

রাজ পরিবারের বধূ হওয়ায় সারাক্ষণ চর্চার মধ্যে ছিল তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন। এই কারণে বহু সংবাদপত্রকে আইনি নোটিসও পাঠিয়েছেন হ্যারি-মেগান। শেষপর্যন্ত রাজপরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো আলোড়ন ফেলে দেওয়া সিদ্ধান্ত নেয় যুগল। অনেকেই অবশ্য হ্যারির এই সিদ্ধান্তের পিছনে মা ডায়ানার ছায়া দেখতে পেয়েছেন।

এরপর শনিবার বাকিংহাম প্যালেস থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। যেখানে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ অবশ্য জানিয়েছেন, পরিবারে দীর্ঘ আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্তের পথে হেঁটেছেন হ্যারি।

তাঁদের আগামী ‘স্বাধীন’ জীবনের জন্য শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন রানি। তবে পাশাপাশি, রানি আরও জানিয়েছেন, নতুন চুক্তি অনুযায়ী জনসাধারণের কাছ থেকে হ্যারি ও মেগান আর কোনও রয়্যাল ডিউটি পাবেন না। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য সরকারিভাবে আর কোনও সেনা মোতায়েন করা হবে না।

আরও পড়ুন: মিস্টার শিটহোল ! জিনপিংকে অশ্লীল ভাষায় সম্বোধন ফেসবুকের, নেট দুনিয়া তোলপাড়

একইসঙ্গে ফ্রগমোর কটেজ সংস্কারের জন্য রাজকোষাগার থেকে যে প্রায় আড়াই মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়েছিল, তা হ্যারি-মেগান শোধ করে দেবেন। কারণ ওই টাকা ব্রিটেনের করদাতাদের। এরপর যদি তাঁরা ওই কটেজ পারিবারিক বাড়ি হিসেবে রাখতে চান, তবে তাঁদের ভাড়া গুনতে হবে।

অর্থাৎ তাঁরা আর কোনওভাবেই রাজ পরিবারের সদস্য নন। তাই রাজ পরিবারের কোনও সুযোগসুবিধা তাঁরা পাবেন না এবং নেবেনও না।  একদম সাধারণ জীবনযাপন করবেন হ্যারি-মেগান। উল্লেখ্য, বিয়ের পর উইন্ডসর ক্যাসেলে এই ফ্রগমোর কটেজেই স্ত্রী মেগানকে নিয়ে ছিলেন হ্যারি।

সুত্র

Facebook Comments