রিজভী

বিএনপি ত্রাণের নামে ফটোসেশন করে- তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি কৃষকের ধানক্ষেতকে বিনোদনের জায়গা বানায়নি এবং আওয়ামী লীগই ফটোসেশন করছে।

তিনি বলেন, ফটোসেশন করতে গিয়ে আওয়ামী নেতারা পাকা ধানের বদলে কাঁচা ধান কেটে জাতির কাছে যে তামাশার পাত্র হয়েছে সেটি বেমালুম ভুলে যান তথ্যমন্ত্রী। ধানক্ষেতে যত না আওয়ামী নেতাদের উপস্থিতি তার চেয়ে ক্যামেরার সংখ্যাই বেশি।

আজ রোববার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

ত্রাণের নামে ফটোসেশন আর সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করাই বিএনপির কাজ- তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ‘উনি এই কথাগুলো সজ্ঞানে না অজ্ঞানে বলেছেন তা ষ্পষ্ট নয়। ওনার নিশ্চয়ই জানার কথা, সরকারী দলের বাধা, প্রশাসনের বাধা ও মামলা-গ্রেপ্তারের মধ্যেও দুস্থ, অসহায় ও কর্মহীন মানুষকে সাহায্য সহায়তা করছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

তিনি বলেন, বিএনপি তো আর সরকারী ত্রাণের লুটপাটের উৎসবের সাথে জড়িত নয়, তাই তথ্যমন্ত্রীর বিএনপি’র ত্রাণ কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।’

ত্রাণ বিতরণে সারাদেশে চরম অনিয়ম চলছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, কয়েক কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছেন। ভয়াবহ মহামারি করোনা ভাইরাসের নগ্ন থাবার দমবন্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও মুখ চিনে চিনে সরকারি দলের লোকজনদের ত্রাণ সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ জায়গায় প্রকৃত অসহায় দুস্থরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

রিজভীর অভিযোগ, ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তার জন্য অনেকে ছুটে বেড়ালেও পাচ্ছেন না। ফলে অসংখ্য কর্মহীন দরিদ্র মানুষ নিত্যদিন উপোস থাকছেন। বিদ্যমান মানবিক বিপর্যয়েও ত্রাণ চুরি, আত্মসাৎ এবং লুণ্ঠন যেন নিরেটভাবে গাঁথা। এসব অপকর্ম নিয়ে তথ্যবহুল রিপোর্ট করার কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাসহ চিকিৎসা জরুরি অবস্থা ঘোষণা, করোনা মোকাবেলায় রোডম্যাপ প্রকাশ, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ত্রাণ বিতরণ ও খাদ্য ঝুঁকি নিয়ে প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও সরকার তাতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমরা বলেছি, জাতীয় ঐক্যে গড়ে ওঠা সম্মিলিত প্রয়াস ও মনোবল আরো শক্তিশালী হবে এবং দুর্যোগ থেকে উত্তরণ সহজ হবে। ভয়াবহ সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য অনিবার্য। কিন্তু সরকার জাতীয় ঐক্য প্রত্যাখ্যান তো করেছেই, সেই সাথে উপহাসও করছে।’

‘সরকারের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। পূর্ব প্রস্তুতির অভাবে চিকিৎসা উপকরণ, রোগ-নির্ণয়, চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুই নেই আমাদের। দীর্ঘ সময় পেলেও অপরিণামদর্শী আহাম্মকির কারণে বাংলাদেশে করোনার আঘাত এখন ভয়ঙ্কর রুপ নিয়েছে।’

পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “করোনা সংকটে আমরা দেখছি কিভাবে এক শ্রেণির মালিক নিজস্ব লাভের আশায় সরকারের প্রণোদনা পেতে দর-কাষাকষিতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। একবার শহর থেকে গ্রামে, এরপর গ্রাম থেকে শহরে আনা হয়েছে শ্রমিকদের। এটা মানবিক মর্যাদায় স্পষ্ট আঘাত ও শ্রম অধিকারের লংঘন।

“গাজীপুরসহ বিভিন্ন কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হচ্ছে, ছাঁটাই করা হচ্ছে শ্রমিকদের। সরকার এটা সামাল দিতে ব্যর্থ। করোনা ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছে, তাদের প্রতি অত্যাচার করা হচ্ছে কোথাও কোথাও। এসব বন্ধ করতে হবে। সন্মানজনক রুজি ও নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে সমর্থন করে বিএনপি।”

গণমাধ্যমকর্মীদের সাহসী ভূমিকা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি আপৎকালীন ঝুঁকি ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ গণমাধ্যমের ভিড়ে কিছু কিছু মিডিয়া নানা প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করেও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও গণমাধ্যমকর্মীদের সাহসী ভূমিকা অব্যাহত রাখতে মিডিয়ায় স্বাধীনভাবে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ ও এর কর্মীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা এবং নিয়মিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি আপৎকালীন ঝুঁকি ভাতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন:

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ডিজিজ কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ছাড়াল

গেঞ্জির কাপড়ের মাস্ক অনেক বেশি কার্যকর “যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ইউনিভার্সিটি”

সব ধরনের ‘জল্পনা-কল্পনা’ আর ‘গুঞ্জন’কে উড়িয়ে দিয়ে প্রকাশ্যে এলেন কিম

করোনাভাইরাস: আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় কিছু উদ্যোগ

মাস্ক পরে কতটা বাঁচা যাবে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে? জেনে নিন…

Facebook Comments