কেমোথেরাপি নয়, ক্যান্সারের কোষকে ধ্বংস করবে বিশেষ ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা!
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা টেলি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

একদিন পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হবে। মানুষের পদচারণে মুখর হবে চারদিক। করপোরেট কেবিন হয়ে চায়ের আড্ডায় গল্প হবে। সাহসিকতার, মানবিকতার, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করোনাকে হারাবার। পৃথিবীতে এই সময়ে সুপারহিরোর দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের সঙ্গ দিচ্ছে সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন। খুব নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন আরেক দল লোক, যাঁদের আমরা স্বেচ্ছাসেবক বলি।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশন নামের সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে। লাকসামে করোনা-আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ জন, মৃত্যু হয়নি এখনো। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগঠনের তৎপরতায় এখনো গণহারে ছড়াতে পারেনি প্রাণঘাতী মহামারি।

করোনাভাইরাস বাংলাদেশে আসার পরপরই ওরা সর্বোচ্চ তৎপরতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। উপজেলার প্রধান মোট ১৪টি পয়েন্টে স্থাপন করেছে হ্যান্ডওয়াশিং বেসিন। বাড়িঘর, দোকানপাট, এমনকি যানবাহনেও প্রতিদিন ছিটাচ্ছে জীবাণুনাশক স্প্রে।

মার্চের শেষ সপ্তাহে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সুরক্ষারেখা স্থাপন করা হয়। সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম ছিল সেই উদ্যোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কাজের ছবি। পরবর্তী সময়ে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ফেসবুকে তা পোস্ট দিলে সারা দেশে গ্রহণ করা হয় অভিন্ন পন্থা। সরকার কর্তৃক কৃষকের ধান কেটে দেওয়ার নির্দেশনা আসার আগেই সংগঠনের সদস্যরা পরিকল্পনা নিয়ে নেমে পড়েন কাজে।

কৃষকের পাকা ধান কেটে একদম বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। চালু করেছেন হটলাইন সেবা। কল পেলেই ছুটছেন কৃষকের মুখে ফসলের হাসি ফোটাতে।

এসবে ক্ষান্ত না দিয়ে আরও চালু করেছে টেলিমেডিসিন সেবা, যাতে করে ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারে সাধারণ মানুষ। ১০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে করোনা কিংবা এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা মানুষের দাফন, শেষকৃত্য সম্পন্ন করার লক্ষ্যে। লকডাউন হওয়া বাড়িতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে আরও একটি দল।

পবিত্র রমজান মাস সাধনার মাস, ত্যাগের মাস। একে অপরের পাশে দাঁড়াবার মাস। ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশন এবার ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে হাজির। ‘পবিত্র রমজানে আমার আহার দুটি প্রাণে’ শীর্ষক ট্যাগলাইনে প্রতিদিন সংগঠনের অন্তত একজন সদস্য ইফতার করাবেন দুজন অসহায় মানুষকে। তাঁদের লক্ষ্য এই প্রজেক্টের মাধ্যমে ৩০ রমজানে ২৫০ স্বেচ্ছাসেবী ইফতার করাবেন ৫০০ জনকে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মাত্র ৮ দিনেই তা ছুঁয়েছে ২১০ জনের ঘর। এ ছাড়া, তিন দফায় প্রায় হাজারখানেক সুবিধাবঞ্চিত, নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষকে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী উপহার।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ফোন পেলেই কৃষকের পাকা ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেওয়াসহ নানান কাজ করে যাচ্ছেন লাকসামের ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা। ছবি: সংগৃহীত

সংগঠনের পথচলা শুরু হয় রক্তদান কার্যক্রমের মাধ্যমে। রক্ত দিয়েই পরিচিতি অর্জন। শিকড়কে ভুলে থাকা অসম্ভব। করোনা পরিস্থিতিতেও গত এক মাসে দুই শতাধিক ব্যাগের বেশি রক্তদান করেন নিবেদিতপ্রাণ সদস্যরা। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি শুরুর পর থেকে রক্তদানের এই সংখ্যাটা ৪ হাজার ৭০০-এর ঘরে। উপজেলার মানুষের কাছে আস্থার অপর নাম এই সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে সামনে থেকে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের। মাথার ওপর ঢাল হয়ে আছেন, আর তাতেই নির্ভার হয়ে মানবসেবায় নিজেদের সর্বস্ব ঢেলে দিচ্ছেন ওরা। ঘোর ক্রান্তিকালে প্রমাণ করছেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ প্রবাদের সার্থকতা।

আরও পড়ুন:

করোনাযুদ্ধে যে দামে বিক্রি হলো সৌম্যর ব্যাট ও তাসকিনের বল

চলচ্চিত্রের ক্ষতি নিয়ে বলার জন্য আমি সঠিক ব্যক্তি নই: রিয়াজ

ঋষি কাপুরের মুম্বইয়ের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে হল স্মরণসভা

ঋষি কাপুরের মৃত্যু শয্যার ভিডিয়ো ফাঁস! হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দুষছে FWICE

Facebook Comments