কৃষকদের সম্মান

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি, কৃষক আর কৃষিবিদ একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। আমাদের জাতীয় আয়ের সিংহভাগই আসে কৃষি থেকে। কৃষিপ্রধান এদেশের ৮০-৮৫ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত।

দেশে কৃষিপ্রযুক্তির বিপ্লব ঘটেছে, কম সময়ে কৃষিপণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে, বিদেশ থেকে উন্নত বীজ ও সার-ওষুধ নিয়ে আসা হচ্ছে। এসবের কারণেই হয়তো কৃষিক্ষেত্রে একটা নীরব বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে এবং আগের চেয়ে উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সভ্যতা নির্মাণে কৃষি এবং কৃষকের অবদান সবচেয়ে বেশি হলেও আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হন কৃষকরা। যুগে যুগে শাসকের খাজনার টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে কৃষককে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে; নির্যাতন ও নিষ্পেষণে জর্জরিত হতে হয়েছে তাদের।

আরও পড়ুন: আফ্রিকার শীর্ষ ধনী নারী ইসাবেল ডস সান্টোস। গোপন তথ্য এবার ফাঁস হয়েছে

সেই কৃষকদের সম্মান জানাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কৃষি বিভাগের ৪র্থ  ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অনার্স লাইফের শেষ ক্লাসকে স্মরণীয় রাখতে মেয়েরা শাড়ি এবং ছেলেরা লুঙ্গি পরে গামছা মাথায় বেঁধে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ ক্লাস করেন।

বাঙালির ঐতিহ্য এবং কৃষির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং কৃষক ও কিষাণীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা এই সাজে ক্লাশ করেন।

ক্লাস শেষে সবাই সেই সাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন,প্রশাসনিক ভবন,অডিটোরিয়াম, শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করেন পুরো ক্যাম্পাস।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে সহায়তা দিতে প্রস্তুত জাপান, নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আল আমীন আকাশ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাস আসলেই খুব আবেগঘন সময়, এই মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলাম ভিন্ন কিছু করে।

তা ছাড়া আমাদের পঠিত বিষয় কৃষি, তাই এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং এই কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই আমরা এই ধরনের পোশাক বেছে নিয়েছি’।

Facebook Comments