কেমোথেরাপি নয়, ক্যান্সারের কোষকে ধ্বংস করবে বিশেষ ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা!

বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের রোগ প্রতিরোধকারী কোষ (টি-সেল) আবিষ্কার করেছেন যা ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে নিশানা করে তার আক্রমণ ক্ষমতা বা কার্যক্ষমতাকে ধ্বংস করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের দাবি, টি-সেল ক্যান্সার থেরাপির সাহায্যে দীর্ঘমেয়াদী চিকিত্সা ছাড়াই একাধিক ধরনের ক্যান্সার কোষকেই ধ্বংস করতে সক্ষম।

টি-সেল কী?

টি-সেল হল এক ধরণের শ্বেত রক্তকণিকা যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ও তার (ইমিউন সিস্টেম) কার্যকলাপের অন্যতম অঙ্গ। এই টি-সেল শরীরে প্রবেশ করা ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণকে প্রতিহত করে আমাদের সুস্থতা বজায় রাখে।

আরও পড়ুন: মুরগির মেটে বা লিভার খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি না ক্ষতিকর? জেনে নিন

টি-সেল ক্যান্সার থেরাপি কী?

বিজ্ঞানীরা কৃত্তিম উপায়ে এই রোগ প্রতিরোধকারী টি-সেল বা শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে সেগুলিকে ক্যান্সারের টিউমার বা ক্যান্সার কোষকে (ম্যালিগন্যান্ট টিউমার) ধ্বংসের উদ্দেশ্যে চালিত করছেন। এর ফলে কেমোথেরাপি ছাড়াই ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা সম্ভব হবে।

কী ভাবে টি-সেল-এর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে?

বিজ্ঞানীরা রক্ত থেকে শ্বেত কণিকা (টি-সেল) সংগ্রহ করে সেগুলিকে পরীক্ষাগারে কৃত্তিম উপায়ে বিভাজিত ও বৃদ্ধি ঘটাচ্ছেন। এর পর ওই কোষগুলির জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সেগুলিকে এমন ভাবে চালিত করছেন, যাতে কৃত্তিম ভাবে তৈরি ওই কোষগুলি শুধুমাত্র ক্যান্সার কোষকেই ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে চালিত হয়।

আরও পড়ুন: রক্তাল্পতার সমস্যা দূরীকরণের খাবার রান্নায় দিন লোহার তৈরি মাছ!

আরও পড়ুন: ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই সফল ভাবে স্তন ক্যান্সার ঠেকাতে পারে ব্রকোলি, দাবি বিজ্ঞানীদের

বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের এই কোষগুলির নাম দিয়েছেন এমআর-১ (MR1)। তবে এখনও পর্যন্ত এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়েই রয়েছে। এখনও পর্যন্ত পরীক্ষাগারেই ইঁদুর বা মানব কোষের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে এই বিশেষ টি-সেল (MR1)। পরীক্ষা সফলও হয়েছে। সরাসরি মানুষের উপর প্রয়োগের জন্য আরও কয়েক ধাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

Facebook Comments