দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীত বাড়ছে

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দেশের অন্তত ৮০ শতাংশ এলাকা গতকাল মেঘ ও কুয়াশায় ঢাকা ছিল। বাকি এলাকায় কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা পাওয়া গেলেও দিনের তাপমাত্রা খুব একটা বাড়েনি। ফলে কনকনে শীতের অনুভূতি কমেনি।

ঘন কুয়াশার কারণে সৈয়দপুরে বিমান ওঠানামায় সমস্যা হয়েছে। শীতের কারণে কষ্ট বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শীতজনিত রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘন কুয়াশা ও মেঘের কারণে গতকাল দেশের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এলাকায় সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি। এ কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে। ৫০টির বেশি জেলায় আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, শীতের এই সময়টাতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। কিন্তু গতকাল রাজধানীর দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম ছিল। বাকি জেলাগুলোতে তাপমাত্রার এই পার্থক্য ছিল আড়াই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে এসব এলাকায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।

গতকাল সরকারি ছুটির দিন থাকায় সড়কে মানুষের যাতায়াত ছিল কম। যাঁরা রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাঁদের ভারী শীতের পোশাক পরে বের হতে দেখা গেছে। ছিন্নমূল রাজধানীবাসীর অনেককে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিতে দেখা গেছে।

শৈত্যপ্রবাহ নেই। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীত বাড়ছে। শীতজনিত রোগে ৫ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত।

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঈশ্বরদীতে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বেশির ভাগ স্থানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। বাকি এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। তবে গতকাল দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হিমালয় থেকে আসা বিশাল কুয়াশার প্রবাহটি বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকায় বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বেড়ে গেছে। তবে আজ দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রাতে শীতের অনুভূতি বেশি থাকতে পারে।

কৃষকদের জন্য সতর্কতা

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ জেলায় সাধারণ মানুষের কষ্ট ও বিড়ম্বনা বেড়ে গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাঠে থাকা বোরো ধানের বীজতলা, অবশিষ্ট আমন ধান, গম, সবজি, সরিষাসহ রবিশস্যে পরিচর্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থা দুটি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ফসলের যত্ন ও বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

কৃষি আবহাওয়াবিষয়ক ওই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বোরো ধানের বীজতলা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে জমিতে জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে ফেলতে হবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে বিকেলে তা তুলে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। শীতের এই সময়ে সরিষার অল্টারনারিয়া, গমের ব্লাস্ট ও আলুর নাভি ধসা রোগ দেখা দিতে পারে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন পাঁচ হাজার রোগী

গতকাল সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে এসেছে ৮৩৪ জন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এসেছে ১ হাজার ৭৫৪ জন। বাকিরা এসেছে জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, চর্মরোগ ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

 স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭২৮। আর এ সময়ে মারা গেছে ৫৪ জন। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি শিশু ও বয়স্কদের।

ঠান্ডাজনিত রোগের বিষয়ে কন্ট্রোল রুমের সহাকারী পরিচালক আয়শা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, জানুয়ারিতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ ও তাপমাত্রা কম থাকায় সেটা হচ্ছে না। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগ মোকাবিলায় নির্দেশনা দেওয়া আছে।


সুত্র

Facebook Comments