এলপিজির দাম: বিশ্ববাজার অস্থির, দুশ্চিন্তা দেশে

ছয় মাসে এলপিজির দাম ৬১% ও বিউটেনের দাম ৬৪% বেড়েছে দেশে দাম এক দফা বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো

বিশ্ববাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অস্থির, যা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশে। দেশের বহু পরিবারের খরচ ইতিমধ্যে এক দফা বেড়ে গেছে। কোম্পানিগুলো ১ জানুয়ারি থেকে এলপিজির দাম বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো সাধারণত ৩০ শতাংশ প্রপেন ও ৭০ শতাংশ বিউটেনের মিশ্রণে এলপিজি বাজারজাত করে। এ খাতে রয়েছে ১৯টি কোম্পানি।

এ অঞ্চলে এলপিজির দাম নির্ভর করে সৌদি আরামকো নামে পরিচিত সৌদি এরাবিয়ান অয়েল কোম্পানির নির্ধারিত দামের ওপর। আরামকোর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের জন্য ঘোষিত প্রপেনের দাম টনপ্রতি ৫৬৫ ডলার, যা গত সেপ্টেম্বরে ছিল ৩৫০ ডলার।

এর মানে হলো, পাঁচ মাসে প্রপেনের দাম ৬১ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে বিউটেনের দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। জানুয়ারিতে বিউটেনের দাম ঘোষণা করা হয়েছে টনপ্রতি ৫৯০ ডলার, যা গত সেপ্টেম্বরে ৩৬০ ডলার ছিল।

আরও পড়ুন: সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান? জেনেনিন শরীরে সুগার বেড়ে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলি

বাংলাদেশের গ্রাহকদের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজি কিনতে হচ্ছে এলাকাভেদে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে, যা আগের চেয়ে প্রায় ২০০ টাকা বেশি।

এ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এলপিজির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. জাকারিয়া জালাল বলেন, বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে টনপ্রতি প্রায় ২০০ ডলার। জাহাজভাড়া বেড়েছে টনপ্রতি ৩০ ডলার। বাজেট ঘোষণার আগে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ছিল ৯ টাকা, এখন সেটা ৫১ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে জাহাজগুলোতে উন্নতমানের জ্বালানি (লো সালফার ফুয়েল) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে এক টন এলপিজি আমদানিতে ভাড়া লাগছে ১২০ ডলার, যা আগে ৯০ ডলার ছিল।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাবে, দেশে এলপিজির চাহিদা ছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার টন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশে এলপিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ লাখ। রাজধানীর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়েও এখন এলপিজি ব্যবহার করা হয়। এখন অনেক গাড়িতেও এলপিজি ব্যবহৃত হচ্ছে।

দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি চাপে পড়েছে সীমিত আয়ের মানুষ। ঢাকার শেওড়াপাড়ার আবদুল মজিদের পরিবারে মাসে দেড় সিলিন্ডারের মতো (১৮ কেজি) এলপিজি লাগে। এতে তাঁর খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা, যা চলতি মাসের হিসাবে ৩০০ টাকা বাড়বে। তিনি বলেন, খুব হিসাব করে খরচ করার পরও গ্যাস নিয়ে কষ্ট করতেই হচ্ছে।

নতুন বছরের শুরুতেই ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম চড়া। এখন বাড়ল এলপিজির দাম। এর মধ্যেই আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন: আমরা ফিরে যাব, স্বপ্ন দেখছেন ৩০ বছর আগে নিজের দেশে শরণার্থী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘মাসে ৩০ হাজার টাকার কম আয়ের মানুষ নিম্ন আয় ও ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে আয় করা মানুষেরা নিম্নমধ্যম আয়ের। দাম বাড়লে এরা চাপে পড়ে যান। তখন সঞ্চয় বাদ দিতে হয়।’

গোলাম রহমান আরও বলেন, সংসারের খরচ বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষ অন্যান্য খাতে ব্যয় কমিয়ে দেয়। ঘুরেফিরে এর প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে।

Facebook Comments