ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন
ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন

প্রেমে রাজি না হওয়ায় জোর করে বাইকে বসিয়ে বাড়ি থেকে দূর নির্জন এলাকায় তিন বন্ধু মিলে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয় এক কিশোরীকে। সবশেষে প্রমান লোপাটের চেষ্টায় বাইকের পেট্রল দিয়ে মৃতদেহে আগুন লাগিয়ে পালায় সকলে।

কুমারগঞ্জের বেলখোর এলাকায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এমনই সব তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনাকে হায়দরবাদের সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রতিবাদ সর্বত্র।

সোমবার বেলখোর এলাকার পাকুড়তলায় কার্লভাটের তল থেকে এক কিশোরীর অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে মৃতার নাম প্রমিলা বর্মন। বয়স -17 । ফুলবাড়ী হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী ওই কিশোরীর বাড়ি গঙ্গারামপুর থানার উদয় এলাকার পঞ্চগ্রামে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মূল অভিযুক্তের ফেলে যাওয়া একটি বাইকও উদ্ধার করে। বাইক ও অন্যান্য সূত্র ধরেই ঘটনার ২৪ঘন্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সফল হয়।

তিন ধর্ষক

ঘটনায় জড়িত তিনজনের নাম পঙ্কজ বর্মন মাহবর মিয়া ও গৌতম বর্মন। গোয়ায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে তিনজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে গৌতম বর্মন মৃতার দূর সম্পর্কে আত্মীয়।

পঞ্চগ্রামেরই বাসিন্দা মাহবর দীর্ঘদিন থেকেই প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রমিলাকে নানা ভাবে উত্যক্ত করতো বলে অভিযোগ। সোমবার বিকেলে প্রমিলার অন্যত্র বিয়ের সম্বন্ধ করতে পাত্র পক্ষের লোকজন তাঁকে দেখতে আসার কথা ছিল।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায় যে সোমবার দুপুরে ফুলবাড়ী বাজার থেকে চাদর কিনবে বলে প্রমিলা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। সেখান থেকে জোর করে নিজের বাইকে তাঁকে চাপিয়ে নিয়ে পালায় মাহবর নামে ওই যুবক। ফুলবাড়ী থেকেই অন্য একটি বাইকে তাদের সঙ্গী হয় পঙ্কজ ও গৌতমও।

বেলখোর এলাকার পাকুড়তলা কালভার্টের আশপাশের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সেখানে তিন বন্ধু মিলে তাঁকে পর পর ধর্ষণও করে বলে অভিযোগ। এবং ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করে

আর-পড়ুনঃ ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রলীগের সমাবেশ, শাহবাগে অবরোধ

তারপরেই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলে মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছে ধৃতরা। ঘটনার ২৪ঘন্টার মধ্যে খুনের কিনারা সহ জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করতে পারায় পুলিশের বড়সড় সাফল্য বলে মনে করছেন সকলে।

এবিষয়ে পুলিশ দেবর্ষী দত্ত জানিয়েছেন, তদন্তে তিন জনের জড়িত থাকার প্রমান মিলেছে। সোমবার রাতের মধ্যেই মাহবর মিয়া গৌতম বর্মন ও পংকজ বর্মন নামের তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার তিনজনকে আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতের নিকট চার্জশিট পেশ করা হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছেন।

Rating: 5 out of 5.
Facebook Comments