নাজমুলই পেলেন সেঞ্চুরির দেখা
  • বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি নাজমুল হোসেনের
  • বিপিএলের ইতিহাসে পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি নাজমুলের
  • প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী রয়্যালসের মুখোমুখি হবে খুলনা টাইগার্স
  • এলিমিনেটরে মুখোমুখি ঢাকা প্লাটুন ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

চার মেরে ম্যাচটা শেষ করে এসেছেন নাজমুল। আজ অবশ্য অন্য কারও ব্যাট থেকে জয়ের শট এলে সেটা মানাত না।

প্রথম ইনিংসেই মুমিনুল দেখিয়েছেন কীভাবে ইনিংস গড়তে হয়। ইনিংস গড়তে পারলেও ফিনিশিংটা দেখাতে পারেননি মুমিনুল হক। তাঁর দেখানো পথে হেঁটে সেটাও করে দেখালেন নাজমুল হোসেন। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ঢাকা প্লাটুনকে উড়িয়ে দিলেন এই ওপেনার। ২০৬ রানের লক্ষ্যকেও মামুলি বানিয়ে কোয়ালিফায়ারে খুলনা টাইগার্সকে তুলে আনলেন নাজমুল। ২০৬ রানের লক্ষ্য ৮ উইকেট ও ১১ বল হাতে রেখেই ছুঁয়েছে খুলনা।

এবারের বিপিএল এর আগেও দুটি সেঞ্চুরি দেখা গেছে। কিন্তু সে দুটি ছিল ডেভিড মালান ও জনসন চার্লসের। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা বারবার কাছে গিয়েও পারছিলেন না। খুলনারই মুশফিকুর রহিম দুইবার ৯০ পেরিয়ে পারেননি। আজ মুমিনুল দুই ওভারে ১২ রান দূরত্ব থাকা অবস্থায় পৌঁছেও ৯১ রানে ফিরেছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও সৌম্য সরকারও অপরাজিত থেকে আর কটি বলের জন্য লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি। নাজমুল অবশ্য বেশ বলে কয়ে অনেক সময় হাতে রেখেই তিন অঙ্ক পেরিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে ফর্ম হারিয়ে খোঁজা নাজমুলই পারলেন অসম্ভবে পরিণত হওয়া কাজকে সম্ভব করতে।

জিতলেই প্রথম কোয়ালিফায়ারের নিরাপদ পর্ব, হারলে এলিমিনেটরের ধাক্কা। এমন অবস্থায় ঢাকা বড় এক স্কোরই গড়েছিল। মুমিনুলের ৫৯ বলের ইনিংসের সঙ্গে মেহেদী হাসানের ৩৬ বলে ৬৮ রানের ইনিংস ২০৫ রানের আপাত নিরাপদ এক স্কোর এনে দিয়েছিল। কিন্তু খুলনার হয়ে অন্য মেহেদী হাসান সেটাকে সহজ লক্ষ্য বানানোর পণ করলেন। শুরু থেকেই আগ্রাসী হয়ে মিরাজ খেলছিলেন দুর্দান্ত। আর অন্য প্রান্তে নাজমুল যেন ধীরস্থির শান্তির প্রতীক!

এই টুর্নামেন্টে ইনিংসের শুরুতে উঠিয়ে আনার পর দারুণ ফর্মে আছেন মিরাজ। আর নিয়মিত ওপেনার হয়েও নাজমুল ধুঁকছিলেন। একদিকে মিরাজ বড় বড় সব ইনিংস খেলছেন, অন্যদিকে একবার মাত্র চল্লিশ পেরিয়েছেন নাজমুল। আজও সে পথেই এগোচ্ছিল ইনিংস। একদিকে ঢাকার বোলারদের মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে আছড়ে ফেলছেন মিরাজ। অন্যদিকে শুধু প্রান্ত বদল করেই সন্তুষ্ট নাজমুল। প্রথম ১০ বলে মাত্র ৯ রান ছিল তাঁর। পাওয়ার পেলে শেষে নাজমুলের স্কোর ১৩ বলে ১৫, আর মিরাজের রান ২৩ বলে ৪৪। কিন্তু সপ্তম ওভারে মেহেদীর বলে থামতে হলো মিরাজকে। ২৫ বলে ৪৫ করা মিরাজ দলকে ৭০ রানে রেখে ফিরেছেন।

এরপরই শুরু হলো নাজমুল শো। মিরাজ আউট হওয়ার আগেই প্রথম ছক্কা মেরেছিলেন। কিন্তু সেটা যে মূল অনুষ্ঠানের আগে তবলার ঠুক-ঠাক সেটা কে জানত? অন্যপ্রান্তে রাইলি রুশো থাকা সত্ত্বেও কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের এমন আগ্রাসন চোখে তৃপ্তি এনে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টির অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ৮১ রানের জুটি গড়েছেন নাজমুল। তাতে রুশোর অবদান ১৬ বলে ২৩। ৪০ বল স্থায়ী জুটির বাকি ৫৮ রানই নাজমুলের। ঢাকার সব বোলারই তাঁর ঝড়ের সামনে পড়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি টের পেয়েছেন থিসারা পেরেরা। ১৩তম ওভারে এই অলরাউন্ডারের বলে তিন ছক্কা মেরেছেন নাজমুল।

এর আগেই অবশ্য ২৭ বলে ফিফটি পেয়ে গেছেন নাজমুল। ফিফটির আগে পাঁচ চার ও দুই ছক্কা হাঁকানো নাজমুল পরের ফিফটি পেয়েছেন ২৪ বলে। তাতে দুই চার ও চার ছক্কা। ১৭তম ওভারেই বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন। সেঞ্চুরির পরও থামেননি। অন্যপ্রান্তে মুশফিকের ভরসা পেয়ে নিজের কাজটা করে গেছেন। জয় নিয়ে যখন ফিরছেন, তখন নামের পাশে ১১৫। ৫৭ বলের ইনিংসে ৮ চার ও ৭ ছক্কা।

সুত্র

Facebook Comments