যত্রতত্র ‘হিসু’ করলেই পদক
শিকারির মতো দাঁড়িয়ে একদল তরুণ-তরুণী, যত্রতত্র হিসু করলেই পদক

কিনব্রিজের নিচের পূর্ব দিকের রাস্তা আর ফুটপাতে যেনবা শিকারির মতো দাঁড়িয়ে আছেন একদল তরুণ-তরুণী। কেউ স্থানটিতে এসে চুপিসারে ‘হিসু’ করলেই পদক দিতে তাঁরা ঘিরে ধরছেন। এরপর গলায় পরিয়ে দিতে যাচ্ছেন পদক (মেডেল)। তবে কেউই ‘অপমানসূচক’ এ পদকটি নিতে রাজি হননি।

এ অবস্থায় প্রস্রাব করতে আসা ব্যক্তিরা তরুণ-তরুণীদের কথা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে কখনোই তাঁরা উন্মুক্ত স্থানে প্রস্রাব করবেন না। উন্মুক্ত স্থানে প্রস্রাব করতে গিয়ে ধরা পড়া এসব ব্যক্তি অনুতপ্ত হলেই কেবল তাঁদের পদকবিহীন যেতে দেন ঘিরে থাকা তরুণ-তরুণীরা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সচেতনতামূলক ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচি পালন করেছেন বিডি ক্লিন সিলেটের সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, দিনভর কিনব্রিজ এলাকার রাস্তা ও ফুটপাতে অবস্থান নিয়ে তাঁরা প্রস্রাব করতে আসা ১৮ জনকে সচেতন করতে পেরেছেন। নগরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে এমন কর্মসূচি তাঁরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন।

বিডি ক্লিন সিলেটের সঙ্গে সম্পৃক্তরা জানান, গতকালই প্রথমবারের মতো ‘যত্রতত্র করলে হিসু, সবাই তোমায় বলবে শিশু’ স্লোগান নিয়ে ‘যত্রতত্র হিসু উৎসব’ শীর্ষক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করা হয়। ২০ জন তরুণ-তরুণী গতকালকের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।

সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি মানুষ কেন উন্মুক্ত স্থানে প্রস্রাব করে এবং কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে যততত্র প্রস্রাব করা রোধ করা যাবে, এটি অনুসন্ধান করাও ছিল তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।

গতকাল দুপুরে কিনব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একজন রিকশাচালক ফুটপাতে প্রস্রাব করতে বসামাত্রই দুজন তরুণ গিয়ে তাঁকে ঘিরে ফেলেন। তাঁকে ওই দুজন তরুণ জানান, পাশেই বিপণিবিতান রয়েছে। প্রাকৃতিক কাজ সারতে তিনি যেন প্রয়োজনে বিপণিবিতানের শৌচাগার ব্যবহার করেন।

এতে রিকশাচালকও মাথা নেড়ে সম্মতি জানান। ভবিষ্যতে কোনো উন্মুক্ত স্থানে তিনি প্রাকৃতিক কাজ সারবেন না বলেও তরুণদের কথা দেন। পরে তরুণেরা তাঁকে ছেড়ে দেন।

চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি ফুটপাতে প্রস্রাব করতে গিয়ে তরুণদের ঘেরাওয়ের শিকার হন। এ সময় তিনি বলেন, ‘উন্মুক্ত স্থানে প্রস্রাব করা অনুচিত কাজ, এটা ঠিক। কিন্তু এখানে তো বিকল্পও নেই। কোনো পাবলিক টয়লেট নেই।

আর-পড়ুনঃ নববর্ষে সবার সমৃদ্ধি কামনা মোদীর, নতুন ভোরের আশা মমতার

সিটি করপোরেশনের এ এলাকায় একটি গণশৌচাগার স্থাপন করা প্রয়োজন। পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে যত্রতত্র প্রস্রাব করা বন্ধ হবে।’ একই রকম মন্তব্য করেন আরও অন্তত পাঁচজন পথচারী।

বিডি ক্লিন সিলেট বিভাগের সমন্বয়কারী যুবায়ের সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমরা মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ভেতর দিয়ে সামাজিক সচেতনতা চালাতে চেয়েছি। এ কর্মসূচির কারণে অনেকেই সচেতন হয়েছেন।

কিন্তু যাঁদের বোঝার কথা, তাঁরাও যদি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গণশৌচাগার তৈরি করে দেন, তাহলে নগরের পরিবেশ আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকবে।’

হিসু করলেই পদক

Rating: 5 out of 5.
Facebook Comments