নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রাজধানী চান তারকারা

সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে রাজধানী ঢাকা এখন প্রচারণায় বেশ সরগরম। বিভিন্ন প্রত্যাশা নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হচ্ছেন নগরপিতারা। ঢাকা শহরের উত্তর ও দক্ষিণে যাঁরা নগরপিতা নির্বাচিত হবেন, তাঁরা নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন নগরী তৈরি করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা চলচ্চিত্র তারকাদের।

চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী ববিতা বলেন, ‘কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, ঢাকার রাস্তায় গাড়ির গতি ঘণ্টায় ছয় কিলোমিটার, মানুষের হাঁটার গতি পাঁচ কিলোমিটার! যানজটের কারণে ঢাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে একটার বেশি কাজের পরিকল্পনা করা মুশকিল হয়। (সিটি করপোরেশন নির্বাচন)

বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে ভাবা উচিত।’ নিরাপদ নগরীর কথাও বললেন ববিতা। তিনি বলেন, ‘প্রায়ই মনে হয় দেশের বাইরে যতটা নিরাপদে চলতে পারি, আমার শহরে তেমন নয়। একেক সময় বের হলে একেকটা ভাবনা মাথায় আসে। অথচ আমার শহরটা সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল।’

নগরপিতাদের মানসিকতার পরিবর্তনেও জোর দিতে বলেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কথা বলছেন, অথচ তাঁরাই পোস্টার লাগিয়ে, উচ্চ স্বরে মাইক বাজিয়ে ঢাকাকে অপরিষ্কার ও শব্দদূষণের নগরী বানিয়ে ফেলেছেন!’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা অভিনয়শিল্পী ইলিয়াস কাঞ্চন ঢাকা শহরের সড়ক, ফুটপাত, আন্ডারপাস, ওভারব্রিজগুলো সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তুলতে নগরপিতার কাছে অনুরোধ করেছেন। মশার উৎপাতের বিষয়টি নিয়েও উদ্বিগ্ন এই অভিনয়শিল্পী।

তিনি বলেন, ‘গেল বছর মশা যে হারে মানুষকে যন্ত্রণা দিয়েছে, তা বলার মতো নয়। নগরপিতা যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বাড়িতে মশা থাকে কি না। কামড়ায় কি না। তাঁদের বাড়িতে যদি মশা থাকত কিংবা কামড়াত, তাহলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিতেন। মাঝেমধ্যে এ-ও মনে হয়, এসব কি পালিত মশা!’।

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী তারিক আনাম খান পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত ঢাকা তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ধানমন্ডি, উত্তরা, গুলশান, বনানী—যেখানে সমাজের একটু শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বিত্তবানদের বসবাস, তাঁদের এলাকায় সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র বেশি হওয়া উচিত। (সিটি করপোরেশন নির্বাচন)

অথচ সেখানে না আছে সিনেপ্লেক্স, না আছে সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র। দিল্লিতে আমি এমন প্রচুর জায়গা দেখেছি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেশি হলে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি কর্মকাণ্ড, তরুণদের অবক্ষয় থেকে মুক্ত করতে পারে।’

আরও পড়ুন: সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান? জেনেনিন শরীরে সুগার বেড়ে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলি

মানুষ যাঁকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাঁরা তাঁদের কিছু প্রতিশ্রুতি প্রত্যক্ষভাবে দেখতে চান। বললেন আজাদ আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের চারপাশে যে পরিমাণ ইটভাটা, যা পরিবেশদূষণ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে, শব্দদূষণ করছে—এসব থেকে জনগণকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে।’

রোশান, মম, বুবলী
রোশান, মম, বুবলী

শিশুদের বিকাশের দিকে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন আফসানা মিমি। তিনি বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের জন্য অনেক বেশি খেলার মাঠ তৈরি করে দিতে হবে। সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র তৈরি করা উচিত।

প্রযুক্তির বাহুল্যকে কীভাবে জীবন থেকে বাদ দিতে পারি, তা ভাবতে হবে। এই বাহুল্য তখনই বাদ দিতে পারব, যখন শিশুদের প্র্যাকটিক্যালি এনগেজড করতে পারব। নগরপিতা অবশ্যই উন্নয়ন করবেন, তা শুধু অবকাঠামোগত নয়, সামাজিকও যেন হয়।’

ধর্ষণমুক্ত, মশামুক্ত ও উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থার ঢাকা জাকিয়া বারী চান মম। তিনি বলেন, ‘এমন দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচিত হতে চাই না, যেখানে শিশুরা নিরাপদ নয়। সেই ঢাকা শহর, সেই দেশ চাই না, যেখানে বিভিন্ন বয়সী মেয়েরা নিরাপদ নয়। আমি নগরপিতাদের কাছে এই নিশ্চয়তা চাই।’

ঢাকাকে সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নগরপিতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন বুবলী। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহর যেহেতু দেশের প্রাণকেন্দ্র, সুযোগ-সুবিধা বেশি, তাই সারা দেশের মানুষ ঢাকামুখী।

ঢাকায় যানজট দিন দিন করুণ হচ্ছে। সবারই কাজে যেতে অনেক সময় নষ্ট হয়, এদিকটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, দুই মেয়র আলোচনা করে সমাধান বের করবেন বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন: এলপিজির দাম আকাশ্চুঙ্গী: বিশ্ববাজার অস্থির, দুশ্চিন্তা বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর

চিত্রনায়ক রোশানের বাবা ছিলেন আখাউড়া পৌরসভার মেয়র। রোশান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের অনেক কাছাকাছি থাকেন, প্রতিটা বাড়িতে যান, নির্বাচনের পরও যেন এই ধারাবাহিকতা বেশি থাকে। জনগণের আরও বেশি আপন হতে পারেন। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বোঝা উচিত।’

Facebook Comments