ইরানের হামলায় কিস্যু হয়নি, সামান্য একটু ক্ষতি হয়েছে: ট্রাম্প

তাদের হামলায় ৮০ জন মার্কিন সেনা মারা গিয়েছে বলে দাবি করেছিল ইরান। সেই দাবি নস্যাত্ করলেন ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, একজন মার্কিন নাগরিকেও প্রাণ যায়নি।   

ইরাকে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে মিসাইল হানা চালিয়েছে ইরান।। ৮০ জন মার্কিন সেনাকে মেরে আমেরিকার গালে সপাটে থাপ্পড় মেরেছি বলে দাবিও করেন ইরানের নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। কিন্তু ইরানি হানায় কোনও ক্ষতিই হয়নি বলে পাল্টা দাবি করলেন ট্রাম্প। বলেন,”গত রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হানায় কোনও মার্কিন নাগরিকের গায়ে আঁচড় লাগেনি। আমাদের জওয়ানরা নিরাপদেই রয়েছেন। সেনা ছাউনিতে ন্যূনতম ক্ষতি হয়েছে।”  

ট্রাম্প আরও একবার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রেখেছেন। বলেন, ”আমরা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র  তৈরি করছি। ওদের চেয়ে যুদ্ধের সরঞ্জামও উন্নত। তবে আমরা এটা ব্যবহার করতে চাই না।” তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ইরানকে যে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না তাও স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প।     

বাবার শোকযাত্রায় প্রতিশোধের শপথ নিয়েছিলেন মেয়ে জায়নাব সোলেমানি। অবশেষে ৩ জানুয়ারির বদলা এল ৭ জানুয়ারি। ইরাকের স্থানীয় সময় রাত ১.৩০ নাগাদ ইরানের আইন আল আসাদ বেস থেকে ইরাকে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে উড়ে এল ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল। তারপর একের পর এক বিস্ফোরণ। খতম ৮০ জন মার্কিন সন্ত্রাসবাদী। আহত অন্তত ২০০, দাবি করেছে ইরানের জাতীয় টেলিভিশন।

১৯৭৮ সালের কোম বিক্ষোভের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খোমেইনি বলেন,”আমেরিকার মুখে থাপ্পড়।” প্রতিটি মার্কিন সেনাকে ইরান ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমেরিকা যেন না ভাবে, সোলেমানির মৃত্যুর পর বিপ্লব শেষ হয়ে গেছে। ২০১৮-র ডিসেম্বরে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ইরাকের এই সেনাঘাঁটিতে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। হামলার পরেও অবিচল মার্কিন প্রেসিডেন্ট। টুইট করে তিনি বলেছেন, ‘অল ইজ ওয়েল। কতটা ক্ষতি হয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 

ইরাকে অন্য মার্কিন ক্যাম্পগুলির সেনাদের তত্পর থাকতে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সেনাদের সুরক্ষার ব্যাপারে ইরাকের কাছে আবেদন জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি ইরানকে হুঁশিয়ারির সুরে সতর্কও করে দিয়েছেন। থেমে থাকেনি ইরানও।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হুঙ্কার ছেড়েছেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমেরিকাকে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব।  যুদ্ধ হলে শেষ অবধি লড়ে যাওয়ার কথা বলছেন আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার। ফলে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ ক্রমশই ঘনাচ্ছে। 
সুত্র

Facebook Comments