এই ৫ কারণে ধূমপান না করেও হতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার
এই ৫ কারণে ধূমপান না করেও হতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার

শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিভিন্ন ক্যান্সারের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফুসফুসে ক্যান্সার। আমাদের একটা বদ্ধমূল ধারণা হল, কারও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছে মানেই সেই মানুষটি ধূমপায়ী। কিন্তু ধূমপান না করলেও যে ফুসফুসে ক্যান্সার হবার ঝুঁকি থাকেই।

ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। কিছু বদঅভ্যাস বা অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। ধূমপান করলে ক্যান্সারে আক্রান্তের সম্ভাবনা বাড়ে সে কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই প্রক্রিয়াটি খুব ধীর গতিতে হয়ে থাকে। যে কারণে ধূমপায়ী মানুষেরা বুঝতেই পারেন না তাঁদের ধূমপান করার অভ্যাসটি তাঁকে মৃত্যুর মুখে নিয়ে যাচ্ছে। একটি মার্কিন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সে দেশের ৯০% ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য দায়ী ধূমপানের অভ্যাস। দেখে নিন ফুসফুসে ক্যান্সারের ব্যাপারে এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জেনে নেওয়া যাক তেমনই কয়েকটি কারণ যেগুলি দিনের পর দিন ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

১) পরোক্ষ ধূমপান: আপনার বন্ধুটি যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন এবং আপনি ধূমপান না করলেও তার পাশে থাকার ফলে পরোক্ষ ধূমপান আপনার ফুসফুসেরও সমন ভাবে ক্ষতি করছে। কারণ, ধূমপান যাঁরা করেন এবং যাঁরা ধুমপায়ীদের আশেপাশে থাকেন ও ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন, তাঁদেরও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

২) যাঁদের পরিবারে ক্যান্সার রোগী রয়েছেন বা ছিলেন: ফুসফুসের ক্যান্সার এমনকি যে কোনও ক্যান্সার হতে পারে, তা হলও জেনেটিক মিউটেশন। মিউটেশনের কারণে সেই মানুষটিরও ফুসফুসে ক্যান্সার হতে পারে, যে জীবনে কোনও দিনই সিগারেট ছুঁয়েও দেখেননি। যাঁদের পরিবারে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন বা ছিলেন (বিশেষ করে ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো) তাঁরা ক্যান্সারে আক্রান্তের অনেক বড় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই যদি পারিবারিক ইতিহাসে ক্যান্সার আক্রান্ত কেউ থেকে থাকেন, তাহলে অবহেলা না করে সকলেরই নিয়মিত চেকআপ করানো উচিত।

৩) নানা ধরণের কেমিক্যাল: নিকেল, আর্সেনিক, অ্যাসবেস্টোস, ক্রোমিয়াম বা এই জাতিয় মৌলগুলির সংস্পর্শে অতিরিক্ত আসার ফলে ফুসফুসে ক্যান্সারের ঝুঁকি অন্যান্যদের তুলনায় বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যাঁরা কল-কারখানায় কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।

৪) অকুপেশনাল হ্যাজার্ড: যাঁরা পেশাগত কারণে ক্ষতিকর ধোঁয়ার আশেপাশে দিনের অনেকটা সময় কাটান তাঁদেরও ফুসফুসে ক্যান্সার হবার ঝুঁকি থাকে। যাঁরা ডাইং ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন এবং রাসায়নিকের ধোঁয়ার আওতায় আসেন, ট্যানারিতে কাজ করেন, গার্মেন্টসে এমন ধোঁয়ার মাঝে কাজ করেন বা রাস্তায় পিচ ঢালাই করেন তাঁদেরও ফুসফুসের ক্যান্সার হবার বড় একটি ঝুঁকি থাকে। এর পাশাপাশি যে সব মহিলারা কাঠের উনানে নিয়মিত রান্না করে থাকেন তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি থাকে।

আরও পড়ুন: বড় ধাক্কা মমতা সরকারের: CAA-NRC সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ রাখার নির্দেশ

৫) পরিবেশ: বর্তমানে পরিবেশ দূষণ অনেক বেড়ে গিয়েছে এবং এই দূষণ ফুসফুসের ক্যান্সারের একটি অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাঁরা দৈনিক রাস্তাঘাটে গাড়ির ধোঁয়ার মধ্যে চলাফেরা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। শহরাঞ্চলে বাতাসে দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেশি। তাই শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।

Facebook Comments