rh ফ্যাক্টর কি,
rh ফ্যাক্টোর কি?

আমরা অনেকেই জানিনা Rh ফ্যাক্টর কি এবং এর সমস্যা সম্পর্কে, কিন্তু Rh ফ্যাক্টর আমাদের বৈবাহিক জীবনে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে। উন্নত বিশ্বে বর্তমানে বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে Rh ফ্যাক্টর পরিক্ষা করে নেওয়া হয়।

আমাদের বৈবাহিক জীবনে কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে তা জানার আগে জানতে হবে Rh ফ্যাক্টর কি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১৯৪০ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইনার (Karl Landsteiner and Wiener) রেসাস বানরের (Macaca mulatta) রক্ত খরগোসের শরীরে প্রবেশ করিয়ে খরগোসের রক্তরসে এক ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সক্ষম হন। রেসাস বানরের নাম অনুসারে এই অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর (Rhesus factor) বা সংক্ষেপে Rh factor বলে। Rh ফ্যাক্টরবিশিষ্ট রক্তকে (Rh+ পজেটিভ) এবং Rh ফ্যাক্টরবিহীন রক্তকে (Rh-নেগেটিভ) বলে।

Rh ফ্যাক্টরের কারনে সৃষ্ট সমস্যা (Problem due to Rh factor)

১) Rh ফ্যাক্টরবিহীন (Rh-নেগেটিভ) রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তির রক্তে Rh ফ্যাক্টরবিশিষ্ট (Rh+ পজেটিভ) বিশিষ্ট রক্ত দিলে প্রথমবার গ্রহীতার দেহে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না, কিন্তু গ্রহীতার রক্তরসে ক্রমশ Rh+ অ্যান্টিজেনের বিপরীত উৎপন্ন হবে, গ্রহীতা যদি ২য় বার দাতা Rh+ রক্ত গ্রহন করে তা হলে গ্রহীতার রক্তরসে অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টরের প্রভাবে দাতার লোহিত রক্তকণিকা জমাট বেঁধে পিন্ডে পোরিণত হবে।

তবে একবার গ্রহনের পর গ্রহতা আর ঐ রক্ত গ্রহণ না করে তাহলে ধীরে ধীরে তার রক্তে উৎপন্ন সমস্ত অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর নষ্ট হয়ে যায় এবং গ্রহীতার স্বাভাবিক রক্ত ফিরে পাবে।

২) সন্তানসম্ভবা মহিলাদের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টর খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন (Rh-নেগেটিভ) মহিলার সঙ্গে একজন (Rh+ পজেটিভ) পুরুষের বিয়ে হলে তাদের প্রথম সন্তান হবে (Rh+ পজেটিভ) , কারণ Rh+ একটি প্রকট বিশিষ্ট্য। ভ্রূণ অবস্তায় সন্তানের Rh+ ফ্যাক্টযুক্ত লোহিত কণিকা অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্তে এসে পোছাঁবে, ফলে মায়ের রক্ত Rh- হওয়ায় তার রক্তরসে অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর (অ্যান্টিবডি) উৎপন্ন হবে।

অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর মায়ের রক্ত থেকে অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করলে ভ্রূণের লোহিত কণিকাকে ধংস করে, ফলে ভ্রূণও বিনিষ্ট হয় এবং গর্ভপাত ঘটে।

এ অবস্তায় শিশু জীবিত থাকলেও তার দেহে প্রচন্ড রক্তাল্পতা এবং জন্মের পর জন্ডিস রোগ দেখা দেয়। এ অবস্থাকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস (Erythroblastosis foetalis) বলে।

আরোও-পড়ুনঃ পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা প্রতিরোধে অবশ্যই মেনে চলুন এই ৫টি জরুরি পরামর্শ

যেহেতু Rh বিরোধী অ্যান্টিবডি মাতৃদেহে খুব ধীরে ধীরে উৎপন্ন হয় তাই প্রথম সন্তানের কোন ক্ষতি হয় না এবং সুস্থই জন্মায়। কিন্তু পরবর্তী গর্ভাধান থেকে বিপত্তি শুরু হয় এবং এ রোগে ভুগে মার যায়।

তাই বিয়ের আগে হবু বর-কনের রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত এবং একই Rh ফ্যাক্টরভুক্ত (হয় Rh+ নয়তো Rh -) দম্পতি হওয়া উচিত।

তবে সুখের কথা এই যে, পৃথিবীর বেশীর ভাগ অংশে Rh- বৈশিষ্ট্য দুর্লভ। কানাডা। মার্কিন যুক্তোরাষ্ট্র ও ইউরোপের ককেশিয়ানদের ১৫% Rh – বৈশিষ্ট্য বহন করে। তবে যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় তার হচ্ছে পাইরেনীজ-এর বাস্ক (২৫-৩৫%), আফ্রিকার বার্বার এবং সাইনাই উপদ্বীপেড় বেদুইন (১৮-৩০%) ।

Rating: 4.5 out of 5.
Facebook Comments