Roddur Roy exclusive interview
রোদ্দূর রায়ের একান্ত সাক্ষাৎকার

রোদ্দুর রায়। সোশ্যাল মিডিয়ার খুব পরিচিত নাম। রবীন্দ্র সঙ্গীতকে সুর থেকে সরিয়ে নিয়ে এসে নিজের মতো করে গাইতে শুরু করেন। বাংলাদেশের বরিশালে জন্ম নেওয়া রোদ্দুর (Roddur Roy) থাকেন ভারতে।

রোদ্দুর রায়ের (Roddur Roy) কাণ্ড কারখানা নিয়ে অনেকেই মজা পান আবার অনেকে বিরক্ত। কিন্তু সেসব নিয়ে মাথা ঘামান না তিনি।

আজ ২৭ ডিসেম্বর, শুক্রবার কলকাতায় রোদ্দুর রায়ের প্রথম বাংলা উপন্যাস প্রকাশিত হচ্ছে। নাম – “মোক্সা রেনেসাঁ”।

সপ্তর্ষি প্রকাশনের কর্ণধার সৌরভ মুখোপাধ্যায়ের কথায় একে উপন্যাস না বলে আখ্যান বলাই ভাল।

আরও-পড়ুনঃ ‘ ক্যাংকা আছিস বন্ধু, কী করিচ্চু তুই?’ পুনর্মিলনী

আপনার আসল নাম তো অন্য। এই রোদ্দূর রায় নামকরণের সার্থকতা কী?

একটু নীরবতা, কি জেন ভাবছে!

যিনি নামকরণ করেছেন তিনি তো একটা আবেগ থেকে করেন। কিছু একটা ভেবেছিলেন।

এটা তো পাঁচ নম্বরের প্রশ্ন। এত ছোট উত্তর দিলে চলবে কী করে?

রোদ্দুর বলেন (Roddur Roy), নামকরণের সার্থকতা বিচারের সময় আসেনি আসলে। নাম আসলে যে লোক দিচ্ছে, আর যে আমি সে নামে পরিচিত,

সে দুজন এক মানুষ নাই হতে পারে। এ নাম যে আমারই আমাকে দেওয়া, তেমন কোনও ডকুমেন্ট তো আসলে নেই।

সার্থকতা তো ইতিহাস বিচার করে। ভবিষ্যতের ইতিহাস। নামকরণটা সার্থক নাকি অসার্থক, সেটা আমি ঠিক জানি না।

কিন্তু রোদ্দুর রায়, এ নামটা স্থির করবার পিছনে তো একটা ভাবনা ছিল। সেটা ঠিক কী!

না, তেমন কোনও ভাবনা ছিল না।

একেবারেই হঠাৎ?

হ্যাঁ, তাই বলতে পারেন।

আপনি কি নার্সিসিস্ট?

(নীরবতা, তারপর সামান্য হাসি)

আমার সাইকোলজিস্ট বলতে পারবেন আমি নার্সিসিস্ট কিনা। আমরা প্রতিদিন যাঁদের দেখি, তাঁরা ঠিক কোন মানসিক রোগে আক্রান্ত, তা বিচার করার জায়গায় আমি দাঁড়িয়ে নেই।

ধরেই নিচ্ছি নার্সিসিজম একটা মানসিক রোগ, বা একটা সোশাল সিম্পটম। আমার সাইকোলজিতে পড়াশোনা নেই, অন্তত কাউকে নার্সিসিস্ট বলে ঘোষণা করার মত পড়াশুনো নেই।

বাংলা সাহিত্য জগতে কাউকে আপনি নার্সিসিস্ট বলে চিনতে পারেন?

বললাম যে আমার সেই পরিমাণ সাইকোলজির প্রপার পড়াশোনা নেই, যার ভিত্তিতে আমি কাউকে নার্সিসিস্ট বলতে পারি।

প্রপারলি জানা বলতে কী বোঝায়? ব্যাকরণ জেনে গান গাওয়া, ব্যাকরণ জেনে লিখতে বসা, ব্যাকরণ জেনে ছবি আঁকা, এগুলোই তো প্রপারলি জানা। সেই প্রসঙ্গে বলছি আর কী!

ব্যাকরণ মায়ের ভোগে যাক। ব্যাকরণ একটা ইনস্টিটিউশন। যে প্রতিষ্ঠান ক্রীতদাস বানানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান সবসময়ে চেয়েছে কিছু মানুষকে ক্রীতদাস বানাতে। আমি এই প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করি। এই অর্থে নয় যে প্রতিষ্ঠানে বোম মারো, এই অর্থে যে মানবতাকে মুক্ত করতে দাও।

মানবতা যদি মুক্ত হয়, তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক যে দৃষ্টিভঙ্গি একটা মানুষকে একটা নির্দিষ্ট তকমায় বেঁধে দেওয়ার বা একটা নির্দিষ্ট ডেজিগনেশনে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা।

এ গান জানে, এ জানে না, এ ছবি আঁকতে জানে বা জানে না, সে কথা কে বলে দিতে পারে?

তাহলে প্রপারনেস কী দিয়ে ঠিক হবে?

এর সঙ্গে আপনার ওই নার্সিসিজমের তফাৎ রয়েছে। নার্সিসিজম সাইকোলজি দ্বারা ডিফাইন্ড। সংগীত যখন আমি বলছি, তখন তা কী দিয়ে ডিফাইন্ড? একটা ইমোশনাল এক্সপ্রেশন, লজিক্যাল এক্সপ্রেশন অফ সোল।

আমি যখন বলছি একজন সংগীত করছেন, এক একটা সমাজে সংগীতের অর্থ এক এক রকম। কণ্ঠসংগীতও সংগীত, ইন্স্ট্রুমেন্টের যে এক্সপ্রেশন সেটাও সংগীত, আদিবাসী গানও সংগীত, উচ্চাঙ্গ সংগীতও সংগীত। সংগীতের রেঞ্জ অনেক বড়। নার্সিসিজমের রেঞ্জ ওরকম নয়। অত বড় নয়।

এই যে আপনি বললেন লজিক্যাল এক্সপ্রেশন অফ সোল, তখন আপনি লজিককে মায়ের ভোগে পাঠাচ্ছেন না কেন?

আই ডিফাই লজিক। লজিক ব্রেনের একটা পার্ট। লেফট ব্রেন থেকে লজিক নিঃসৃত হয়। এবারে সোশাল লজিক, ইন্ডিভিজুয়াল লজিক,

এক একটা সময়ের এক একটা টাইম স্পেসের লজিক, এক একটা সময়ের সমাজে দাঁড়িয়ে এক একটা লজিক।

যে লজিকটা একটা ইয়েস-নোর লজিক, এটা ঠিক নাকি ঠিক নয়, এটা গুড নাকি ব্যাড, সেখানে লজিক শুড বি প্রোমোটেড ইন আ ওয়ে বেনিফিশিয়ারি টু দ্য মাস।

আমার কাছে যদি একটা লজিক থাকে, যেটা মাসকে বেনিফিট করে না, কিন্তু সেটা আমার পার্সোনাল লজিক- সে লজিকটা আমি সকলের জন্য ব্যবহার করতে পারি না।

আপনি যে এই দ্বিত্ব (বাইনারি)-র কথা বললেন, গুড-ব্যাড বা ইয়েস-নো, আপনি এই দ্বিত্বের লজিকের বিরোধিতা করেন?

আমি (Roddur Roy) বিশ্বাস করি, শিল্পে এই ভালো আর মন্দের মাঝামাঝি কিছু জায়গা থাকবে। কিছু ফাজি লজিক থাকবে।

শিল্প সাহিত্যে আমি যখন একটা এক্সপ্রেশন নিয়ে আসছি, তখন কোনও সংজ্ঞায় আটকে থাকাটাকে আমি মানি না।

কিন্তু কোনও সংজ্ঞা থাকা উচিত বলে মনে করেন কি?

সংজ্ঞা থাকা উচিত এক্সপ্রেশনের। কোনও একটা ফ্রেম না থাকলে এক্সপ্রেস করা যায় না। যেখানে আমি মানবাধিকারে বিশ্বাস করছি,

নাগরিকের এক্সপ্রেশনে বিশ্বাস করছি, সেখানে ইন্সটিটিউশন কোনো সংজ্ঞা দ্বারা নির্দেশিত হবে না, এমনটা আমি বিশ্বাস করি।

আপনি যে মোক্সা শব্দটা ব্যবহার করেন, এটার উৎস কী? এটা কি মোক্ষ থেকে এসেছে?

হ্যাঁ, মোক্ষ মানে আত্মার মুক্তি। আধ্যাত্মিক অর্থে আত্মা নয়, এখানে মানবিক আত্মার কথা বলা হয়েছে। মানে এটা অতটা গোপনে অনুশীলন করা আধ্যাত্মিকতা থেকে নির্গত আত্মা থেকে চলে আসছে ইমপ্লিমেন্টেবেল স্পিরিচুয়ালিটির জায়গায়।

সে অর্থে মোক্সা হল স্বাধীনতা। আমি বলি, স্বাধীনতা, প্রেম ও শান্তি। নাগরিক মানুষের জন্য স্বাধীনতা, প্রেম ও শান্তি।

আপনার যে চর্চা, তার অন্যতম মাধ্যম তো বাংলা। আপনার মাতৃভাষাও বাংলা। তাহলে মোক্সা শব্দটা ব্যবহার করছেন কেন মোক্ষ না বলে? মোক্সা বললে কীরকম রজনীশ ওশোর কথা মনে হয় না? আপনি কি একটা বড় টার্গেটকে ধরার উদ্দেশ্যে এরকম একটা শব্দ ব্যবহার করছেন?

আমার মনে হয় না মোক্সা একটা বাংলা শব্দ নয়। যে কোনও ভাষাতেই নতুন শব্দ আসতে পারে। মোক্ষা শব্দটার সঙ্গে আমরা পরিচিত বলে মোক্সা শব্দটা আসবে না তা নয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মোক্ষ, মোক্সায় রূপান্তরিত হতেই পারে। মোক্ষ বলতে আমরা যা বুঝি, মোক্সায় তার সঙ্গে যুক্ত হবে ইমপ্লিমেন্টেড স্পিরিচুয়ালিটি  বা ইমপ্লিমেন্টেড আর্ট।

এই সমস্ত কিছু মিলিয়েই মোক্সা। এটা টিপিক্যাল মোক্ষ নয়। আর ওশো রজনীশ তো রজনীশ। (হাসি)

আপনি কি অ্যানার্কিস্ট?

হতে পারে। (অট্টহাস্য) আমি এখনও খুব ভেবে দেখিনি যে একজ্যাক্টলি নিজেকে আমি অ্যানার্কিস্ট বলতে পারব কিনা। অ্যানার্কির অনেকগুলো সেন্স আছে বলে আমার মনে হয়। সেখানে একটা সেন্সে, হয়ত তাই।

আমি (Roddur Roy) প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছি বলে আমার মনে হয়নি। আমি মানবাধিকারকে এসট্যাবলিশ করার চেষ্টা করছি, যা আমাদের সমাজে নেই।

সারা পৃথিবীতেই মানবাধিকারের যাকে বলে গাঁ.. মারা গিয়াছে। তো আমি সে ব্যাপারে কাজ করছি। আমি আরও বেশি মানবাধিকার কী ভাবে পাওয়া যায় তার চেষ্টা করছি।

রাজতন্ত্রতে মানবাধিকার ছিল না, গণতন্ত্রতেও আসেনি, আমরা যদি এবার নতুন একটা মডেলের খোঁজ করি, একজন একা মানুষ মডেল তৈরি করছেন এটা তো হয় না।

কিন্তু নিজেকে এক্সপ্রেস করছেন প্রত্যেক মানুষ হতে পারে। আমি নিজেকে প্রকাশ করার চেষ্টা করছি।

এবার সেটা অ্যানার্কিজম, না নিহিলিজম না অন্য কিছু, সেটা সময় বলবে। আমি এখনও কোনও তকমা আমার ওপর লাগানোর চেষ্টা করছি না তার কারণ আমি সেটা তত জরুরি বলে মনে করছি না।

আমি একজন নাগরিক, আমি কিছু কাণ্ড করছি, যেটা আমার করতে ইচ্ছে করছে। আমার বিশ্বাস এই স্বাধীনতাটুকু আমার প্রাপ্য, যেখানে আমি আমার ইচ্ছানুসারে যা করতে ইচ্ছে করছে, তাই করতে পারি।

সকলেরই এই স্বাধীনতা প্রাপ্য।

কিন্তু আপনার তো একটা রাজনীতি বা দর্শনও আছে, যা এতক্ষণের কথা থেকে স্পষ্ট।

রাজনৈতিক ভাবে আমরা সচেতন থাকি, প্রতিটি মানুষই দার্শনিক। এই যে আপনার অসহনীয় একটা ব্যাপার, ডিস্টার্বিং,

কিছুটা পরিমাণে বিকৃতভাবে নিজেকে পেশ করা- এই স্পেকট্যাকলটা যে আপনি তৈরি করেন, এটার রাজনীতিটা কী?

আমি তো আমার মত হয়েছি, সেটা যদি আপনার অদ্ভুত লাগে সেটায় তো…

না এটা আমার কথা নয়, আপনার একটা অডিয়েন্স রয়েছে…

(কথা শেষ করতে না দিয়ে) আমি এই অডিয়েন্সের ব্যাপারে অ্যাওয়ার নই। (অট্টহাসি)

আমার সে ভাবে কোনও টার্গেট অডিয়েন্স নেই। আমি যেভাবে কাজগুলো করছি তাতে অডিয়েন্স নেই ভেবে আমি করে যাচ্ছি।

আমি ২০১২ থেকে ইউটিউবে চ্যানেল করছি, সেখানে ২০১৪তে আমি দেখলাম লোকে রিঅ্যাক্ট করছেন,

এখনও রিঅ্যাক্ট করছেন… আমি আমার মতো কাজগুলো করছি। আমি ইউটিউব চ্যানেলের বাণী দেখেছি, সেটা হচ্ছে ব্রডকাস্ট ইওরসেল্ফ।

তো আমি ছোটবেলা থেকে নিজেকে ব্রডকাস্ট করার চেষ্টা করেছি, আমি কোনও মাধ্যম পাইনি,

আমি দেখেছি আকাশবাণী থেকে ব্রডকাস্ট হচ্ছে, দূরদর্শন থেকে ব্রডকাস্ট হচ্ছে, কেউ আমাকে বলেনি যে ব্রডকাস্ট ইওরসেলফ। 

রোদ্দুর বলেন (Roddur Roy), আমি চেয়েছি নিজেকে ব্রডকাস্ট করতে, লিটল ম্যাগ ট্যাগ হচ্ছে কলকাতায় দেখেছি, সেখানে দেখেছি তারা নানারকম কিছু করছে- তোমার কবিতা আমি ছাপব, তাহলে আমার কবিতা তুমি ছাপবে,

তার পর টেলিফিল্ম করতে গেছি, সেখানে দেখেছি আমার স্ক্রিপ্ট নিয়ে অন্যলোকে কাজ করছে, বাড়িতে বলছে, তোর স্ক্রিপ্ট গেঁড়িয়ে দিয়েছে যখন তাহলে স্ক্রিপ্টটা ভাল ছিল। 

তিনি বলেন, এরকম একটা সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্যে আমি বড় হয়ে উঠছিলাম এবং নিজেকে একদম ব্রডকাস্ট করতে পারছিলাম না।

কিন্তু এ ব্যাপারে আমার ভয়ানক বাসনা ছিল। তারপর হঠাৎ দেখলাম ইউটিউব বলছে ব্রডকাস্ট ইওরসেলফ।

আমি ভাবলাম ওয়াও ম্যান, দে আর সেয়িং ইট… (অট্টহাসি)। তো আমি ব্রডকাস্ট করতে শুরু করলাম, এখনও করে যাচ্ছি। এবার জনগণ যা করছেন প্রতিক্রিয়ায়,

সেটা আমার কাছে কিছুটা ফান, কিছুটা শেখার বিষয়, কিছুটা অবজার্ভ করার বিষয়- সেটা সোসাইটি কী সেই বিষয়ে।

সোসাইটিকে তো আমি দেখার মতো সময়ও পাচ্ছি না, আমি সাংবাদিকতা করি না, আমি সোশাল সায়েন্স করি না, আমি কিছু গবেষণা করেছি কনশাসনেস সায়েন্স নিয়ে, আমি কিছু নিজের লেখালিখি করেছি, অবসর সময়ে বসে গঞ্জিকা সেবন করে বা না করে ডিগবাজি খেয়ে, ঘরে একা থেকে। 

আমি একটা উদ্ভট জায়গায় থেকেছি যার নাম দিল্লি, সেখানে চারদিকে হিন্দি ভাষা চলছে, আমার মাতৃভাষা সেখানে নেই, আমি অ্যালুফ হয়ে গেছি, আমি রবীন্দ্রসংগীত সেখানে গাইতে পারিনি, শেয়ার করতে পারিনি, যেভাবে রবীন্দ্র সংগীত নাকে নাকে লোকে গেয়েছে,

সিআর পার্কে গিয়ে দেখেছি গান হচ্ছে, সেখানে ‘আকাশে উড়িছে বকপাঁতি“, “বেদনা আমাড় তাড়ই সাথী”,

এরকম উচ্চারণে রবীন্দ্রসংগীত হচ্ছে, সবাই গোল করে ঘিরে দেখছেন দইবড়া ফুচকা খেতে খেতে- এরকম ধরনের বাংলা সংস্কৃতি আমি দেখেছি।

মনে কী দ্বিধা ড়েখে গেলে চলে- এরকম সব উচ্চারণে রবীন্দ্রসংগীত চলছে। তার পরে সকলে বেলফুলের মালা মাথায় লাগিয়ে,

গাঢ় লিপস্টিক লাগিয়ে রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন, এসব দেখে আমি বুঝেছি যে এটা ঠিক আমার ব্রডকাস্টিং স্টাইল না।

আবার এরা আমার ব্রডকাস্টিং স্টাইল ঠিক নিতেও পারবে না, উৎসাহও দেবে না। আমার নিজস্ব এক্সপেরিমেন্ট নিজের মতো করে আমি করেছি।

অবাঙালি এলাকায় থেকেছি, যাতে প্রতিবেশীরা মারতে না আসে।

আপনি কি আপনার যারা ফলোয়ার, তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু প্রেজেন্ট করেন কখনও? রোদ্দুর বলেন,  কখনওই না। কারণ আমি এখানে কোনও ব্যবসায়িক দিক দেখিনি।

এখান থেকে আমি যে অডিয়েন্স তৈরি করব বা বাড়াব কী করে, তার কোনও স্ট্র্যাটেজি আমি তৈরি করিনি।

আমি (Roddur Roy) নিজেকে প্রকাশ করে গেছি, এখনও তাই করে যাচ্ছি। সেখানে আমি এটাকে কোনও বিজনেস হাউস বা কোনও চ্যানেল যেভাবে দেখে,

সেভাবে আমি একজন আর্টিস্ট হিসেবে কীভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব, আমি এটা কখনও ভাবিনি।

দাদুর প্রতি আমার অসীম প্রেম আছে। রবিদাদু, বিঠোফেনদাদু, জীবনদা বা সুকুমার রায়, এঁদের যে আত্মা… এঁরা কিন্তু আমার কাছে ব্যক্তি মানুষ নন।

ব্যক্তি মানুষ হিসেবে এদের কখনও আমি চিনতে পারিনি। তাঁদের আত্মার যে প্রতিফলন তাঁদের কাজে পড়েছে, সেই কাজগুলো আমাকে স্পর্শ করেছে।

আমি (Roddur Roy) সকলের অসম্ভব ভক্ত। এঁদের কাজের সঙ্গে আমার আত্মাকে আমি জুড়তে পেরেছি। সেই জায়গা থেকে একটা মূল্যবোধ চলে এসেছে।

সেটাকে আমি ধরার চেষ্টা করেছি। আমি যখন রবীন্দ্রনাথ বলছি, সে রবীন্দ্রনাথ তো রবীন্দ্রনাথের আত্মা।

আরও-পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণে “গান্ধী ও জিন্নাহর শোকবার্তা”

এসেন্স অফ টেগোর। সেই এসেন্সের মধ্যে আত্মার যে মুক্তি রয়েছে, যে শিক্ষা রয়েছে, আমার ধারণা আমরা সেটা খুব কম নিয়েছি।

সে এসেন্স যদি নেওয়া যেত, তাহলে আমাদের সমাজের এ অবস্থা হতো না।

তা যদি হত, তাহলে কপিরাইট নিয়ে এরকম হুজ্জুতি, বা কে রবীন্দ্রনাথকে ডিভিয়েট করে গেল,

রবীন্দ্রনাথে সাবঅলটার্ন ভাষা এসেছে বলে তাঁকে অপমান করা হয়েছে- এ ধরনের মানসিকতা তৈরি হতো না।  তবে এখন আমার মনে হচ্ছে প্রশ্নগুলো আসা ভাল। 

রোদ্দুর বলেন (Roddur Roy), রবীন্দ্রনাথের আত্মাকে আবিষ্কার করার জন্য আমাদের যে জার্নি, এগুলো তারই অংশ।

এগুলোকে বাদ দিয়ে ওই এসেন্সে পৌঁছতে পারব না। রবীন্দ্রনাথকে আমরা এখনও আবিষ্কার করছি, কারণ রবীন্দ্রনাথ চিরন্তন।

মানুষের প্রতিক্রিয়া একটা জিনিস নিশ্চিত করে যে আবিষ্কারপ্রক্রিয়া চলছে। যদি তা না হত, তাহলে মানুষ প্রতিক্রিয়াহীন হয়ে যেত।

মানুষের প্রতিক্রিয়ার এই সিরিয়াসনেস দেখে আমি চমৎকৃত। যাঁরা আমাকে গাল দিয়েছেন, সমালোচনা করেছেন, তাঁদের সকলকে আমার কুর্নিশ।

আমার মনে হয়েছে, এঁরা সকলে রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসেন, তাঁদের নিজেদের মত করে ভালবাসেন। আমি আমার মতো করে ভালোবাসি। ভালোবাসার কত রং হতে পারে!এই পুরোটা মিলিয়ে যে অনুভব তৈরি হচ্ছে, সেটা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তিনি (Ruddur Roy) বলেন, “তোমার ওই ঝর্নাতলার নির্জনে মাঠের এই কলস আমার হারিয়ে গেল কোনখানে”, এখানে যে আমি, যে তুমি, যে কলস, যে ঝর্নাতলা- সমস্তই তো প্রতীকী।

সেখান থেকে যখন গভীরতর জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ভিজুয়ালগুলো বদলে, সেটা ওই সিম্বলগুলোকে পেরিয়ে যাচ্ছে।

সমস্ত রবীন্দ্রসংগীতে একটা আমি-তুমি রয়েছে। আমি জীবনদেবতা, এই আত্মা পরমাত্মার মধ্যে যে সংযোগ, সেই সংযোগকে উন্মোচিত করা হচ্ছে।

এই উন্মোচন বিশাল শক্তিসম্ভার খুলে দিতে পারছে। এতদিন ধরে রবীন্দ্রসংগীত যে টিকে রয়েছে, সেটা ওই এনার্জিটা। সেটা ভাষার জন্য নয়, গায়নভঙ্গিও নয়।

যে এনার্জি আমির বিকাশ ঘটায়। বিশ্বভারতী যদি আমিকে অবদমন করে থাকে, তাহলে তারা ভুল করেছে।

সম্পূর্ণ পড়তে চাইলে ক্লিক করুন ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস

Rating: 5 out of 5.
Facebook Comments