গ্যাস সংকট_All-24news.com
বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতর মাটির চুলায় রান্নার কাজ সারছেন "গ্যাস সংকট"

নারায়ণগঞ্জের রান্নার সমস্যা

জিয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘আগে রাত জেগে রান্না করতাম। কিন্তু রাত জেগে রান্নার কাজ সারতে গিয়ে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। এ কারণে লাকড়ি দিয়ে মাটির চুলায় রান্নার কাজ করছি।

লাকড়ির চুলায় রান্না করলে ধোঁয়ায় ঘরের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে তাঁরা গ্যাস–সংকটে ভুগছেন। শীতে এই সংকট প্রকট হচ্ছে।

গ্যাস সংকট

রাত সাড়ে ১০টার পর গ্যাস এলেও আবার ভোরে চলে যায়। কিছু কিছু এলাকায় দিনে গ্যাস থাকলেও নিবুনিবু অবস্থা। প্রতিদিন ভোর চারটার দিকে গ্যাস চলে যায়। রাত সাড়ে ১১টার পর আবার গ্যাস আসে। আবার ভোরে চলে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতর বারান্দায় মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার কাজ সারছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ দাতা সড়ক এলাকার বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার।

জিয়াসমিন আক্তারের স্বামী দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্যাস না পেলেও প্রতি মাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। আবার প্রতি মণ লাকড়ি কিনতে হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই মণ লাকড়ি লাগছে রান্নার কাজে। এতে করে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। এভাবে সংসারে বাড়তি অর্থ খরচ হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেন শহরের টানবাজার এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, তাঁদের গ্যাস–সংকট দীর্ঘদিনের। শীতে এই সংকট আরও প্রকট হয়। তিনি বলেন, প্রতি মাসে তাঁদের চারজনের সংসারে খাবার রান্না করতে দুই মণের বেশি লাকড়ি লাগছে। লাকড়ির চুলায় রান্না করতে গিয়ে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, শহরের দেওভোগ দাতা সড়ক ছাড়াও বাবুরাইল, পাইকপাড়া, বাংলাবাজার, ভোলাইল, হাটখোলা, এস এম মালেহ রোড, বংশাল, নয়ামাটি, নয়াপাড়া, জল্লারপাড়, শীতলক্ষ্যা, তামাকপট্টি, নলুয়া, ফরাজীকান্দা, ফতুল্লার নরসিংহপুর, দক্ষিণ সস্তাপুর, সস্তাপুর, লামাপাড়া, কাঠেরপুল, কোতালের বাগ, রামারবাগ, তক্কার মাঠ, পিলকুনি, ধর্মগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চরম গ্যাস–সংকট চলছে। এসব এলাকায় দিনে পাইপলাইনে গ্যাস থাকছে না।

আরও-পড়ুনঃ কেঁদে ফেললেন মেয়র সাঈদ খোকন, বললেন ‘কঠিন সময়’

তাই রান্নার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার অনেকে বাধ্য হয়ে কেরোসিনের স্টোভ, গ্যাস সিলিন্ডার ও মাটির চুলায় লাকড়িতে রান্নার কাজ সারছেন। গ্যাস–সংকটের কারণে শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন–প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

বাবুরাইল এলাকার বাসিন্দা আয়েশা বেগম বলেন, ‘দিনে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না। রাত ১১টার পর গ্যাসের চাপ বাড়ে, আবার তা ভোরে চলে যায়। রাত জেগে রান্নাবান্নার কাজ সারতে হচ্ছে। আবার দিনে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

টানবাজার সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিন্টু সাহা বলেন, ‘রাত জেগে রান্না করা কষ্টকর। এ কারণে কেরোসিনের স্টোভে রান্না করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে ভয় লাগে।’

আরও-পড়ুনঃ আগুন পোহাতে গিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দুজনের মৃত্যু

সিটি করপোরেশনের বক্তব্য

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিত বরণ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক বছর ধরে গ্যাসের এই সংকট চলছে। শীতে গ্যাসের সংকট প্রকট হয়। প্রতিবছরই গ্যাস–সংকটের কারণে লক্ষাধিক মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকেও জানিয়ে কোনো সমাধান হচ্ছে না।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রচণ্ড শীত ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছরই শীতের কারণে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। আর চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ কম রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে।’

সুত্র

Facebook Comments