BPL Match
ঢাকাকে মামুলি লক্ষ্য টার্গেট দিল সিলেট

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিশেষ আসর বঙ্গবন্ধু বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের শেষ দিন আজ। সপ্তম আসরের দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিনে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট অধিনায়ক মোসাদ্দেক সৈকত।

ইনিংসের প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসেই সিলেট শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন ডানহাতি স্পিনার মেহেদি হাসান। ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারকে নিজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় এই ক্যারিবিয়ানকে। মাত্র এক রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন জনসন চার্লস। এরপর মেহেদি হাসানের বলে প্রথমেই ক্যাচ তোলেন তিনি।কিন্তু তাঁর ক্যাচটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন পাকিস্তানি আসিফ আলী। শূন্য রানে জীবন পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ব্যাটিং তাণ্ডব চালানো শুরু করেন। চার ছক্কার ফুলঝুরিতে ঢাকার বোলারদের পরীক্ষা নিতে থাকেন তিনি।

সাত নম্বর ওভারে বোলিংয়ে এসে আব্দুল মজিদকে মেহেদি হাসানের হাত ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান ঢাকার পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। ফলে জনসন চার্লসের সঙ্গে মজিদের ৫১ রানের জুটির সমাপ্তি হয়। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও দারুণ ব্যাটিং করে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সিলেটের ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান জনসন চার্লস। ৫ ছয় এবং ৩ চারের সাহায্যে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। ৮ ছক্কা এবং ৩ চারের সাহায্যে মাত্র ৪৫ বলে ৭৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে বিদায় নেন জনসন চার্লস। ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটসম্যান ইনিংসের ১১তম ওভারে সাদাব খানের বলে আসিফ আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এই আসিফের হাতেই শুরুতে শূন্য রানে জীবন পান চার্লস। ৫ বলে ২ রান করে শহীদ আফ্রিদির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সিলেট থান্ডারের অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় সাদাব খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

আরও-পড়ুনঃ গেইল আসছেন ৫ জানুয়ারি, খেলবেন কয়টি ম্যাচ?

সৈকতের বিদায়ের পর মাঠে আসেন আরেক ক্যারিবিয়ান রাদারফোর্ড। পরে সৈকতের সাথে দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে লড়াই করার মতো রান এনে দেয় তারা। সৈকতের হার না মানা ৪৯ এবং রাদারফোর্ডের ৩৮ রানের কল্যাণে সিলেটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০ ওভারে ১৭৪ রান। জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন ১৭৫ রান। প্লে অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে দুই দলেরই জয়ের বিকল্প নেই। ৭ দলের মধ্যে ঢাকার অবস্থান এখন চার নম্বরে। ৬ নম্বরে রয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনের নেতৃত্বাধীন সিলেট থান্ডার। এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচ খেলে ৩ জয় ও ২ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মাশরাফির ঢাকা। তাদের নেট রানরেট +০ .১৪৩। ঢাকার ৩ জয় কুমিল্লার বিপক্ষে দুবার ও সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে একবার। কুমিল্লার বিপক্ষে জয় ২০ রান ও ৫ উইকেটে এবং সিলেটের বিপক্ষে ২৪ রানের ব্যবধানে। অন্যদিকে টানা ৪ হারের পর পঞ্চম ম্যাচে এসে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে সিলেট থান্ডার। খুলনা টাইগার্সকে ৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় তারা। প্রথম জয়ের পর অনেকটা ফুরফুরে থান্ডার শিবির। ৫ ম্যাচ খেলে ১ জয়ে সিলেটের -০.৫ রানরেট এবং ২ পয়েন্টে অবস্থান ষষ্ঠ স্থানে। সুতরাং তারকাসমৃদ্ধ ঢাকার বিপক্ষে আজকের ম্যাচ তাদের বাঁচা-মরার লড়াই।

সিলেট থান্ডার একাদশ:

আন্দ্রে ফ্লেচার, আব্দুল মজিদ, জনসন চার্লস, মোহাম্মদ মিঠুন (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন মিলন, সোহাগ গাজী, শীরফানে রাদারফোর্ড, ক্রিসমার সান্টোকি, এবাদত হোসেন, নাজমুল ইসলাম।

ঢাকা প্লাটুন একাদশ:

তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয় (উইকেটরক্ষক), মেহেদি হাসান, আসিফ আলী, জাকের আলী, মুমিনুল হক, শহীদ আফ্রিদি, সাদাব খান, ওয়াহাব রিয়াজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), হাসান মাহমুদ।

Facebook Comments